BOOK
বাংলা কথাসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আবু ইসহাক।তার রচিত গল্প বা উপন্যাস সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতায় পরিপূর্ণ। তার সাহিত্য ও রচনার বিশেষত্ব সংখ্যায় নয় বরং সাহিত্যগুনে অনন্য।তাই তিনি বাংলা কথাসাহিত্যের শক্তিমান সাহিত্যকদেরই একজন।
তার রচিত উপন্যাস তিনটির মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় কারো কারো মতে শ্রেষ্টতম উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাসটি, যেই উপন্যাস একজন আবু ইসহাক কে "আবু ইসহাক" করে তুলেছে।
"সূর্য-দীঘল বাড়ী" নামকরনেও রয়েছে তার বিশেষত্ব।সূর্য-দীঘল তথা সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার দিক, পূর্ব-পশ্চিম দিক বরাবর বাড়িকে গ্রামীন সমাজে অপয়া বলে বিবেচনা করা হয়।আর এমনই এক অপয়া বাড়িকে,বাড়ির সংগ্রামী এক নারীর জীবনকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে উপন্যাস টি।
"সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস টি গ্রামীন পটভূমিতে রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর বেঁচে থাকার সংগ্রাম এই উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য।
জয়গুন, এক প্রান্তিক শ্রমজীবী নারী। প্রথম স্বামী জব্বার মুন্সী মারা যাওয়ার পর করিম বকশ নামরে বদমেজাজী কৃষকের সাথে তার বিয়ে হয়।
প্রথমপক্ষের পুত্র হাসু আর দ্বিতীয় পক্ষের কন্যা মাযমুনকে নিয়েই তার সংসার।
তেতাল্লিশের মন্বন্তরের সময় নিজ কন্যা মায়মুন সহ জয়গুনকে করিম বকশ তাড়িয়ের দিলে পেটের দায়ে একবুক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে শহরে পারি জমায় জয়গুন।কিন্তু ভাগ্যদেবীর কি নির্মম পরিহাস! শহরের মিথ্যে চাকচিক্য, নির্মম বাস্তবতায় তাকে আবারও ফিরে আসতে হয় ফেলে আসা সেই গ্রামে।
ভিটেমাটিহীন জয়গুন উপায় না পেয়ে মাথা গুজার টাই নেয় গ্রামের পরিত্যক্ত অপয়া বাড়ি, সূর্য-দীঘল বাড়ীতে। গ্রামীন বিশ্বাসে যে বাড়ি অপয়া, বহু মৃত্যু, ধ্বংস আর ভূত প্রেতের সাক্ষী এই বাড়ি! একবার এই বাড়িতো উঠলে বংশ নির্বংশ হবে নিশ্চিত।
কিন্তু ঐ যে, নূন আনতে যার পান্তা ফুরায় তার কি এতো কিছু ভাবলে চলে? দেহ কঙ্কালসার হলেও তার জন্যও ত একটা টাই প্রয়োজন হয়!
অসীম সাহসী আর সংগ্রামী জয়গুন তাই আশ্রয় নেয় সেই সূর্যদীঘল বাড়িতে,সন্তান সহ ভ্রাতৃপত্নী ও ভাতিজাদের নিয়ে।
শুরু হয় জীবনের সাথে যুদ্ধ। বেঁচে থাকার লড়াই। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চাল এনে আশে পাশের গ্রামগুলোতে ব্যবসা শুরু করে। এর পাশাপাশি পাশের গ্রামে শাক বিক্রি, অমুকের বাড়িতে ধান ভানা যখন যেই কাজ পায় সেই কাজই সানন্দে করতে শুরু করে। ভিটিতে উঠে নতুন ঘর।
ছেলেমেয়েগুলাও অল্পবয়স থেকেই মায়ের সাথে পরিশ্রম করতে শুরু করে, জীবিকার জন্য হাসু স্টেশনে আর লঞ্চ ঘাটে কুলিগিরি আর ছোটখাটো কাজ করতে শুরু করে। আর জীর্ন শীর্ন মায়মুন অপুস্ট হাতে সামলে নেয় গৃহস্থালির সকল কাজ।সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে নিজ নিজ দায়িত্ব বোধ।
সবকিছু যখন ঠিক ভাবে যাচ্ছিলো ঠিত তখনই বাধ সাজে রক্ষনশীল সমাজ।চালকের আসনে বসে থাকা সমাজের কথিত সমাজপতিরা জয়গুনের স্বাধীন চলাফেরা কে খারাপ দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। এই ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বাধা আসে গ্রামের মোড়ল গদু প্রধানের থেকে। জযগুনের উপর তার লোলুপ দৃষ্টি পরে।তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে জয়গুন কে বিয়ে করতে চাইলে জয়গুন তা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে।চড়াও হয় গদু প্রধান। জয়গুনের জীবিকা বন্ধ করতে নানা ফন্দি আটতে শুরু করে যাতে, জয়গুন বিয়ে করতে বাধ্য হয়।
তারপর আসে করিম বকশ এর চাল। অসুস্থ সন্তানকে সুস্থ করে দেয়ার নামে আবারও জয়গুনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় বকশ।
আপাত অর্থে গদু প্রধান থেমে গেলেও, জয়গুনকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে ষড়যন্ত্র আটতে থাকে পুরুষতান্ত্রিক রক্ষনশীল সমাজের মোড়ল গদু প্রধান । আর এক্ষেত্রে তার সবচাইতে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠে ধর্মী গোঁড়ামি আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা।
ধর্মব্যবসাকে পুঁজি করে সমাজপতিরা জয়গুনকে চারদেয়ালে বন্দি করে,দীর্ঘ সময় সন্তান থেকে আলাদা রাখে, শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়েকে অন্যায় ভাবে বের করে দিয়েও ক্ষান্ত হয় নি।কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজের কেউ জয়গুনের পাশে দাড়ায় নি,
এতো অত্যাচারের পরেও একবেলা খাবারে ব্যবস্থা করেনি জয়গুনের।
এতো এতো অত্যাচার আর নিপিড়নের পরও অতি সাহসী আর সংগ্রামী জয়গুন কি পারে পুরুষতান্ত্রিক, ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের বেড়াজাল ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করতে? নারী অধিকার আর সম্মান প্রতিষ্টা করতে?
নাকি গদু প্রধানের গভীর ষড়যন্ত্র আর একের পর এক বিধ্বংসী আঘাতের কাছে হেরে যায় জয়গুন?গদু প্রধানের সকল পরিকল্পনা কে প্রতিরোধ করে দিয়ে জয়গুন কি আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে নিজের ভিটেমাটি?
শেষটা জানতে এক্ষুনি পড়ে ফেলুন আবু ইসহাক এর কালজয়ী সৃষ্টি "সূর্য-দীঘল বাড়ী"।
অর্ডার করতে ইনবক্স করুন রঙমশাল এর ফেসবুক পেজে।
Previous Prize: 175 Offer Prize: 160 tk


Comments
Post a Comment